সৌঋদ্ধি’র ডায়েরি থেকে

সৌঋদ্ধি’র ডায়েরি থেকে ( ১ )
সংকেত প্রবলময়! ঘুমের ভিতরে নাগাল পায় না একরোখা তামাম গুঞ্জন। তবু ভাঙা রিকশার চাকা থেকে পুড়ে যাওয়া তামাক পাতার বিষন্নতা ছুটে এলেও ; যে বুঝে নিত, এ হেমন্তও বিধিবামের আড়াইকক্ষে ভাসিয়ে দিতে পারে সেতারের সুর… তাকেও একদিন মৈথিলী অক্ষরে আচমন করতে দেখেছি কী অদ্ভুত রূপে।
যাকে দু’হাতের তালুতে শীত রাতের খসে পড়া হিমটুকুও দ্যাখাতে পারতাম, যার কাছে শেষ হওয়া নাট্যভূমির মিঠেরোদে হাঁটু মুড়ে বসতাম কত নীরব মৌনতা নিয়ে, যে বারবার ব’লে যেত- “উদাহরণ হ’য়ে ওঠো ঋদ্ধি” সে কবিতাও আজ বহু দূর…। তবু ইচ্ছেরাও তো পাখির খসে পড়া পালকের ওমটুকু নিয়ে ক্ষয়ে যাওয়া পাথরের মতো রাতকে জড়িয়ে শুতে পারে আমৃত্যু। সে পাখির শরীর কী বুঝতে পারে তুমুল ঝড়ে দুলতে থাকা গাছের সন্ধ্যাটুকু ! পারে তো অবশ্যই, নাহলে টালমাটাল বিরুদ্ধ স্রোতেও ভাসিয়ে দেওয়া সড়াতে শেষ অস্তিটুকুর ওম বুকের খাঁজে জমা হয় কেমন ক’রে! কেমন ক’রে তরঙ্গিত স্মৃতিরা খইবর্ণ নিয়েও বুকের বাগানে স্নিগ্ধ পদ্মটি ফুটিয়ে রাখে!
সন্ধ্যা ও রাতের কথা আজ না হয় থাক। আজ বলি এক অনুচ্চারিত ভোর আর দুপুরের কথা।
আমার অক্ষমতার শিকড়ে সেদিন অথৈ নির্জনতা…আমি পলক ফেলিনি। আশ্চর্য রাসচাঁদের মতো আলো হ’য়েছে চোখ! পথেও কত মিরাকল ঘটে যায়! এতদিন তো জানতাম, হত্যা হওয়া স্বপ্নরা আমার কবেই ঝরনা হ’য়ে গ্যাছে। কিন্তু সেদিন যেন দুধসাগরও শক্তি’র আঙুল ধরে এসে বলেছিল, অনাত্মীয় পারাপার ফেলে চলে এসেছি তোমার একান্ত ভৈরবে “আমাকে জাগাও”।।