অধরা স্পর্শ

অধরা স্পর্শ
রাতের গভীরতায় বাজছে এক নীরবতার সুর।
চাঁদের আলোয় প্লাবিত পৃথিবী অথচ ধরা যায় না।
না পাওয়ার বেদনা বড় বুকে বাজে।
অনুভবে থাকা কেউ
বাস্তবে অধরাই থেকে যায়।
শ্যাম, রাই কিশোরীকে হৃদয়ে স্থান দিতে চায়।
বারবার ডাকে আয় আয়।
কিন্তু রাই আজ বড় উন্মনা।
কিভাবে যাবে শ্যামের কাছে?
কানাইয়ের বাঁশির সুর কমলিনি রাধা কে কত সোহাগ করে।
অভিমানী রাই অভিমান করে চুপ করে বসে থাকে।
সে
চায়না ক্ষনিকের মিলন।
রাই কিশোরী চায় কানাই কে একান্তে নিজের করে পেতে।
কানাইয়ের মুখে দুষ্টু হাসি খেলে যায়
মুখে যেন সুধা ঝরে ।
অভিমানী রাই প্রেমে বিগলিত।
শ্যামসুন্দর পূর্ণ পুরুষ
রাই পরমা প্রকৃতি।
শ্যাম রাই এক যুগল
মুরতি।
চাঁদের পূর্ণ শোভা জলের বুকে
বিগলিত রাই আজ শ্যামের সম্মুখে।
রাই ছাড়া শ্যাম,
আর শ্যাম ছাড়া রাই
পৃথিবীতে এ সুখের তুলনা তো নাই।
রাই কিশোরীর মিলন পর্ব শেষ হয়।
এবার শ্যাম ফিরে চলে মথুরার উদ্দেশ্যে।
একবারও ফিরে তাকায় না রাইয়ের দিকে।
যদি তার পথ আগলে দাঁড়ায় তাই একবারও না তাকিয়ে সে ছুটে চলে যায় পথে।
সোনার পুতুল ধুলায় লুটায়।
রাধার বিরহ ব্যথা সয় না প্রকৃতি।
গাছে ডাকে না পাখি।
তরু শাখে ফোটেনা ফুল।
তৃণ খায় না মৃগ, যমুনার জল রাধার দুঃখে গভীর কালো।
বারে বারে জ্ঞান হারায় রাধা।
সখিদের চোখে জল।
কৃষ্ণের বিরহ বেদনায় দশ দিক শূন্য।
রাধা কৃষ্ণ এক আত্মা এক প্রাণ।
কৃষ্ণের অনুভূতি তার হৃদয় বাজে।
মনের যন্ত্রণা অশ্রু হয়ে পথে লুটায়।
অনুভবে থাকা না পাওয়ার বেদনা বাস্তবে অধরাই থেকে যায়।
কৃষ্ণ কলঙ্কিনী হয়ে রাধা পথেতে লুঠায়।